পোশাকে লখনৌ স্টিচ বা লখনৌ কাজ করা বলতে এক ধরণের সূক্ষ্ম সুঁইসুতোর কাজ বোঝায়। প্রথাগতভাবে লখনৌ কাজ হয় যে রঙের জমিন ঠিক সে রঙের সুতো দিয়ে। অর্থাৎ, সাদা জামায় সাদা রঙের সুতোর সূক্ষ্ম কাজ, যাতে খুব নিখুঁতভাবে ফুলের অথবা জ্যামিতিক প্যাটার্ন ফুটিয়ে তোলা হয়। লখনৌ কাজ আগে কেবল সাদা রঙের পোশাক ও কাপড়েই করা হতো। এখন দিন বদলেছে। হরেক রঙের জামায়, কাপড়ে লখনৌ কাজ করা হয়; তবে মূল সূত্র একই। যে রঙের জামা, সে রঙের সুতো দিয়েই কাজ হবে; আবার সে কাজ এমন হবে যেন ফ্লোরাল বা জ্যামিতিক প্যাটার্ন থাকে – আবার কাজটি হতে হবে মোলায়েম, যেন জমিনে গেঁথে থাকে।
![]() |
| মেয়েদের জন্য ফতুয়া |
লখনৌ স্টিচেরই
অন্য নাম চিকানকারি এমব্রয়ডারি। চিকানকারি শব্দটি এসেছে ফার্সি ভাষা থেকে। চিকান মানে
হলো সুঁইয়ের কাজ বা এমব্রয়ডারি। কারি শব্দের অর্থ দক্ষতা, নৈপুণ্য। আমরা যে কারিগর
বলি, তার মানে হলো কারি (দক্ষতা)’র অধিকারী (গর)। অর্থাৎ, দক্ষতা রয়েছে এমন ব্যক্তিই
কারিগর।
পারসিয়ান অভিজাতদের
পছন্দের চিকানকারি এমব্রয়ডারি উপমহাদেশে জনপ্রিয়তা পায় মুঘলদের সূত্রে। সময়ের সঙ্গে
সঙ্গে চিকানকারি হয়ে উঠেছে পারসিয়ান, মুঘল ও উপমহাদেশীয় অনুপ্রেরণা ও সৃজনশীলতার দারুণ
এক মিশেল।
লখনৌ স্টিচ
সময়সাপেক্ষ কাজ। ভীষণ ধৈর্য এবং ডিটেইলসের প্রতি মনোযোগী না হলে এ কাজ শেখা সম্ভব নয়
– করা তো দূর কি বাত। নিচের ছবিতে লখনৌ কাজ ফতুয়াগুলো দেখুন। সাদা চোখে মনে হবে জামার
ওপর সুন্দর ফুল আঁকা রয়েছে, এটুকুই। কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলে বুঝা যাবে যে জামার
নিচে ও উপরের প্লেটে যে কাজ, তাতে কয়েক রকমের স্টিচ রয়েছে। ফুল ও প্যাটার্নের কেন্দ্রে
রয়েছে প্রথাগত ফ্রেঞ্চ গিঁট, যা ফান্দা ও মুড়ি স্টিচে করা। ফান্দা হয় জবের আকৃতির,
মুড়ি চালের। এরপর রয়েছে বাখিয়া স্টিচ – ডাবল সুতো দিয়ে করা মাছের কাঁটার মতো কাজ। এর
বাইরেও অনেক রকম ফোঁড়ের কাজ থাকে লখনৌ স্টিচে – জালি, তেপচি, হুল – কতো রকম নাম ও শৈলী।
বিস্তারিত বলতে গেলে সে আলাপও বাঁধা পড়বে নানারকম বুনন ও গিঁটে, যেমনটা হয় লখনৌ স্টিচে।
আমাদের সংগ্রহে
থাকা লখনৌ স্টিচ করা ফতুয়াগুলো জিন্স, টাইটস, স্কার্ট সবকিছুর সঙ্গে পরা যাবে - -দারুণ
মানিয়ে যাবে।



0 Reviews:
Post Your Review